রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি’-তে স্বাচ্ছন্দ্যময় ডিজিটাল লেনদেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩
  • ১৮২ বার দেখা হয়েছে

রাত সাড়ে ১২টায় হঠাৎ ইন্টারনেট ডিসকানেক্ট হওয়ার নোটিফিকেশন পেলেন তন্ময় আহসান। দু’দিন পরই সেমিস্টার ফাইনাল। গভীর রাত অবধি অনলাইনে যুক্ত হয়ে পড়াশোনা করছিলেন কয়েক বন্ধু মিলে। এত রাতে রিচার্জ করতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই; আবার পছন্দের ডাটা প্যাক কেনার জন্য ফোন বা বিকাশ অ্যাকাউন্টেও নেই প্রয়োজনীয় ব্যালান্স। এমন সময় মাত্র দুই মিনিটেই ‘কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি’ করে বিকাশ অ্যাপ থেকেই কিনে নিলেন দরকারি ইন্টারনেট প্যাকেজ।

‘ওই রাতে বাসা থেকে বের হয়ে গলির মাথায় গিয়ে রিচার্জ করে আবার ফিরে আসতে হয়তো আধা ঘণ্টার বেশি লেগে যেত। তার ওপর পাঁচ তলায় ওঠানামা তো আছেই। বিকাশের বিভিন্ন ফিচার সময় বাঁচিয়ে জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে।’ বলছিলেন আহসান। এদিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সুমাইয়া সুমি নিয়মিত কেনাকাটা করেন বিভিন্ন অনলাইন শপ ও ফেসবুক পেজ থেকে। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় কার্ড পেমেন্টের অপশন থাকে না। এ ক্ষেত্রে সমাধান বিকাশ পেমেন্ট। খুব সহজে কার্ড থেকে ইনস্ট্যান্ট বিকাশে টাকা এনে পেমেন্ট দিতে পারছি। শুধু কেনাকাটা না, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, বাচ্চাদের স্কুলের ফি দেওয়া– সবই করা যাচ্ছে বিকাশে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশে সক্রিয় ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ৩ কোটি ৩১ লাখ আর ক্রেডিট কার্ড ২২ লাখের কিছু বেশি। অনেকের কাছেই ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকলেও বিপণিবিতান, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে পয়েন্ট অব সেলস না থাকা, শহরের ব্যস্ত এলাকার বাইরে এটিএম বুথের স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে গ্রাহকরা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা এনে থাকেন। এদিকে বিকাশের আছে দেশজুড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার এজেন্টের বিশাল এক নেটওয়ার্ক। গ্রাহকরা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা এনে খুব সহজেই হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট করতে পারছেন। আবার দেশজুড়ে বিকাশের রয়েছে সাড়ে ৫ লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্ট, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম পরিশোধ করতে পারছেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা বা মাস্টারকার্ড থেকে বিকাশের ৭ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যে কোনো সময় দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টাকা আনতে পারছেন অ্যাড মানি সেবার মাধ্যমে। এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করার পাশাপাশি কার্ড থেকে বিকাশে তাৎক্ষণিক টাকা এনে সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল, অফলাইন/অনলাইন কেনাকাটার পেমেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া, বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট কাটা, বিভিন্ন ধরনের সরকারি ফি পরিশোধ, সেভিংস, ইন্স্যুরেন্সসহ অসংখ্য সেবা খুব সহজেই নিতে পারছেন বিকাশ গ্রাহকরা।

কার্ড থেকে যেভাবে সরাসরি বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা আনা যায়

বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে ‘অ্যাড মানি’ আইকনে ট্যাপ করে ‘কার্ড টু বিকাশ’ বাছাই করে ‘ভিসা’ বা ‘মাস্টারকার্ড’ সিলেক্ট করতে হবে। এর পর নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর শুরু থেকেই দেওয়া থাকবে, নতুন করে টাইপ করতে হবে না। তবে অন্য কারও নম্বরে টাকা পাঠাতে চাইলে সেই বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরটি টাইপ করতে হবে। তার পর টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে পরবর্তী ধাপে ভিসা/মাস্টারকার্ড কার্ডের নম্বর, মেয়াদ এবং ভিসা কার্ডের ক্ষেত্রে সিভিএন বা মাস্টারকার্ড কার্ডের ক্ষেত্রে সিভিভি নম্বর (কার্ডের পেছনে থাকা ৩ বা ৪ সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড) দিতে হবে। পরের ধাপে ফোন নম্বরে পাঠানো ওটিপি কোড দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাড মানি সম্পন্ন হলে কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে। পরে লেনদেনের সুবিধার জন্য কার্ডের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন গ্রাহক। এ ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে পরবর্তী ধাপে ওটিপি কোড দিয়েই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।

একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘অ্যাড মানি’ করা যাবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচবার ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন যে কোনো গ্রাহক। এভাবে প্রতি মাসে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২৫ বার এবং সর্বমোট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি’-তে স্বাচ্ছন্দ্যময় ডিজিটাল লেনদেন

প্রকাশিত : ০২:০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩

রাত সাড়ে ১২টায় হঠাৎ ইন্টারনেট ডিসকানেক্ট হওয়ার নোটিফিকেশন পেলেন তন্ময় আহসান। দু’দিন পরই সেমিস্টার ফাইনাল। গভীর রাত অবধি অনলাইনে যুক্ত হয়ে পড়াশোনা করছিলেন কয়েক বন্ধু মিলে। এত রাতে রিচার্জ করতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই; আবার পছন্দের ডাটা প্যাক কেনার জন্য ফোন বা বিকাশ অ্যাকাউন্টেও নেই প্রয়োজনীয় ব্যালান্স। এমন সময় মাত্র দুই মিনিটেই ‘কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি’ করে বিকাশ অ্যাপ থেকেই কিনে নিলেন দরকারি ইন্টারনেট প্যাকেজ।

‘ওই রাতে বাসা থেকে বের হয়ে গলির মাথায় গিয়ে রিচার্জ করে আবার ফিরে আসতে হয়তো আধা ঘণ্টার বেশি লেগে যেত। তার ওপর পাঁচ তলায় ওঠানামা তো আছেই। বিকাশের বিভিন্ন ফিচার সময় বাঁচিয়ে জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছে।’ বলছিলেন আহসান। এদিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সুমাইয়া সুমি নিয়মিত কেনাকাটা করেন বিভিন্ন অনলাইন শপ ও ফেসবুক পেজ থেকে। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় কার্ড পেমেন্টের অপশন থাকে না। এ ক্ষেত্রে সমাধান বিকাশ পেমেন্ট। খুব সহজে কার্ড থেকে ইনস্ট্যান্ট বিকাশে টাকা এনে পেমেন্ট দিতে পারছি। শুধু কেনাকাটা না, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, বাচ্চাদের স্কুলের ফি দেওয়া– সবই করা যাচ্ছে বিকাশে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশে সক্রিয় ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ৩ কোটি ৩১ লাখ আর ক্রেডিট কার্ড ২২ লাখের কিছু বেশি। অনেকের কাছেই ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকলেও বিপণিবিতান, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে পয়েন্ট অব সেলস না থাকা, শহরের ব্যস্ত এলাকার বাইরে এটিএম বুথের স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে গ্রাহকরা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা এনে থাকেন। এদিকে বিকাশের আছে দেশজুড়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার এজেন্টের বিশাল এক নেটওয়ার্ক। গ্রাহকরা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা এনে খুব সহজেই হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ আউট করতে পারছেন। আবার দেশজুড়ে বিকাশের রয়েছে সাড়ে ৫ লাখের বেশি মার্চেন্ট পয়েন্ট, যেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম পরিশোধ করতে পারছেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা বা মাস্টারকার্ড থেকে বিকাশের ৭ কোটি ৩০ লাখ গ্রাহক কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যে কোনো সময় দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টাকা আনতে পারছেন অ্যাড মানি সেবার মাধ্যমে। এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করার পাশাপাশি কার্ড থেকে বিকাশে তাৎক্ষণিক টাকা এনে সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল, অফলাইন/অনলাইন কেনাকাটার পেমেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া, বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট কাটা, বিভিন্ন ধরনের সরকারি ফি পরিশোধ, সেভিংস, ইন্স্যুরেন্সসহ অসংখ্য সেবা খুব সহজেই নিতে পারছেন বিকাশ গ্রাহকরা।

কার্ড থেকে যেভাবে সরাসরি বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা আনা যায়

বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে ‘অ্যাড মানি’ আইকনে ট্যাপ করে ‘কার্ড টু বিকাশ’ বাছাই করে ‘ভিসা’ বা ‘মাস্টারকার্ড’ সিলেক্ট করতে হবে। এর পর নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর শুরু থেকেই দেওয়া থাকবে, নতুন করে টাইপ করতে হবে না। তবে অন্য কারও নম্বরে টাকা পাঠাতে চাইলে সেই বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরটি টাইপ করতে হবে। তার পর টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে পরবর্তী ধাপে ভিসা/মাস্টারকার্ড কার্ডের নম্বর, মেয়াদ এবং ভিসা কার্ডের ক্ষেত্রে সিভিএন বা মাস্টারকার্ড কার্ডের ক্ষেত্রে সিভিভি নম্বর (কার্ডের পেছনে থাকা ৩ বা ৪ সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড) দিতে হবে। পরের ধাপে ফোন নম্বরে পাঠানো ওটিপি কোড দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাড মানি সম্পন্ন হলে কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে। পরে লেনদেনের সুবিধার জন্য কার্ডের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন গ্রাহক। এ ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে পরবর্তী ধাপে ওটিপি কোড দিয়েই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।

একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘অ্যাড মানি’ করা যাবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচবার ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন যে কোনো গ্রাহক। এভাবে প্রতি মাসে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২৫ বার এবং সর্বমোট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন।